সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই সঠিক নিয়মিত ও পরিমিত খাবার।। "Maintaining your skin at its optimal health and apearance will greatly contribute to your quality of life". নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার।।
Post

সকালে উঠেই কি প্রচণ্ড মাথাব্যথা? তাহলে জেনে নেওয়া যাক কি করবেন??

মানসিক স্বাস্থ্য

আরামের একটা ঘুম দিয়ে সকালে উঠবেন, কতোই না আরাম। কিন্তু উঠতে না উঠতেই টের পেলেন মাথার ব্যথায় চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছেন না। ঘাড় আর মাথা তুলতে পারছেন না, কাজে বের হবেন সেটাও পারছেন না। এই ব্যথা আপনাকে সারাদিন নাজেহাল করে দিলো। ভাবলেন, গতরাতে তো কোনো ব্যথা ছিল না। ঘুমটাও খারাপ হলো না। তাহলে এতো ব্যথা কেন হলো?

এমন ব্যথা হতেই পারে। এমনকি নিয়মিতই সকালে মাথাব্যথা হয় অনেকের। সেটাকে পাত্তা না দিয়ে সকাল সকালই আন্দাজে একটা পেইনকিলার খেয়ে নিলেন। সাময়িক ব্যথা কমলো, কিন্তু শরীরের তো ক্ষতি হলো। তাই আগে জানুন কেন হচ্ছে এই ব্যথা-

সকালে মাথ্যব্যথা কেন

কারো যদি মাইগ্রেনের সমস্যা থাকে তাহলে ঘুম থেকে উঠে মাথাব্যথা হতে পারে। মাইগ্রেনের সঠিক চিকিৎসা না করে শুধু পেইনকিলারের ওপর ভরসা করলে সকালের দিকে বেশ ব্যথা হতে পারে।

ঘুমের মধ্যে নাকডাকার সমস্যা থাকলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। স্নায়বিক বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে সকালে উঠে তীব্র মাথাব্যথা অনুভব হতে পারে। ঠাণ্ডা  লাগা, নাক বন্ধ, আগের দিন একভাবে প্রচুর কাজ করা ইত্যাদি কারণে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙতে পারে।

কেউ যদি কিছু বিশেষ ধরনের ঘুমের ওষুধ, শর্ট অ্যাকটিং স্লিপিং পিলে অভ্যস্ত থাকে তো সকালে তার মাথাব্যথার সমস্যা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত চা-কফি খেলে বা হঠাৎ করে সেগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিলে ‘উইথড্রয়াল এফেক্ট’ হিসেবে সকালে মাথাব্যথার আশঙ্কা হতে পারে।

 

বেশিমাত্রায় ধূমপান করলেও এক সমস্যা৷ ঘুম কম হওয়া, ভুলভাবে বা ভুল বালিশে শোওয়া থেকেও মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে। রাতে অত্যধিক অ্যালকোহল পান করলে সকালে মাথাব্যথা হতে পারে। সামান্য ড্রিংক করলেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে, মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং মাথাব্যথা বাড়ায়।

*কিছু বিশেষ ধরনের ব্রেন টিউমারে এ রকম হওয়ার আশঙ্কা আছে।

দিনের যেকোন সময় হতে পারে বিষণ্ণতাজনিত মাথাব্যথা, তবে সকালবেলায় বেশি হতে দেখা যায়। বিষণ্ণতা ঘুম এবং ঘুমের রুটিনকে নষ্ট করে দিতে পারে। অনেক বেশি বিষণ্ণতার ফলে মাথাব্যথা হয়।

ঘুম কমবেশি হলে মাথাব্যথা হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ফাইট হরমোন চাঙ্গা হবে, ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাবে, রক্তচাপ ও স্ট্রেস বৃদ্ধি পাবে এবং মাথাব্যথা হবে। প্রতিদিন একজনের ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি ঘুমালে মাথাব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায় বলে মস্তিস্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং মাথাব্যথা হয়।

কি করবেন এই অবস্থায়

আপনার মাথা ও কপালে ভালোভাবে মালিশ করুন। ব্যথার সময়ে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন৷  ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমালে ব্যথার কষ্ট কমে যায় অনেক সময়। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঘুমোনো সম্ভব না হলে ব্যথার মলম লাগিয়ে নিতে পারেন। ব্যথা না কমলে একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নিতে পারেন।

হঠাৎ করে মাথা ব্যথা শুরু হলে সেটা যদি চলতেই থাকে তো ভাবুন আপনি আপনার রুটিন বদলে ফেলেছেন কিনা। জীবনযাপনে কোনো বড় পরিবর্তন এসেছে কিনা ভেবে দেখুন। যদি সেটাই ব্যথার কারণ হয় তো পুরনো রুটিনে ফিরতে চেষ্টা করুন।

সমস্যা চলতে থাকলে দেখুন শরীরে আর কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা।

উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপের সমাধান ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’। এর মধ্যে রয়েছে বিহেভিয়ারথেরাপি, ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশন। আর মাইগ্রেন থাকলে ঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

বেশি পরিমাণে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হঠাৎ বন্ধ করে দেবেন না। অল্প অল্প করে চা-কফি খাওয়ার পরিমাণ কমান। এরপর এতে শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেলে দিনে দু-একবার কম খেয়ে দেখুন কেমন থাকেন৷ তারপর আস্তে আস্তে আরও কমাবেন।

রাতে যাতে ভালো ঘুম হয় সেদিকেও খেয়াল রাখুন। বিছানা-বালিশ ঠিক আছে কিনা দেখুন। শক্ত বা খুব নরম বালিশে ভুলভাবে ঘুমালেও এমন সমস্যা হয়। তাই ঠিকমতো ঘুমান।।

মোঃ আবদুর রহমান ফাহাদ।।

জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট।। 

12 comments

leave a comment