সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই সঠিক নিয়মিত ও পরিমিত খাবার।। "Maintaining your skin at its optimal health and apearance will greatly contribute to your quality of life". নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার।।
Post

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে রাখুন।।

নারীর স্বাস্থ্য

যে সকল উপকরণ বা যার মাধ্যমে গর্ভসঞ্চারে বাধা প্রদান করা যায়, সেই সব উপকরণ বা মাধ্যমকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বলে। নারী ও পুরুষের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে।

★জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রকারভেদ

★জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গুলোকে প্রধানত: দুইভাগে ভাগ করা যায়।

যথা:

ক) সনাতন পদ্ধতি

 

খ) আধুনিক পদ্ধতি।

 

 ক) সনাতন পদ্ধতিঃ

যে পদ্ধতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ঐতিহ্যগতভাবে সমাজে প্রচলিত আছে সেগুলোকে সনাতন পদ্ধতি বলে। যেমন

 

১. প্রত্যাহার বা আযলঃ স্বামীর বীর্য বাইরে ফেলা

২. বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো

৩. নিরাপদকাল মেনে চলা

৪. নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকা বা আত্মসংযম।

খ) আধুনিক পদ্ধতিঃ

আধুনিক পদ্ধতিকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:

১) নন-ক্লিনিক্যাল

২) ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি।

১) নন-ক্লিনিক্যাল:

যে পদ্ধতিগুলো অন্যের সাহায্য ছাড়া নারী-পুরুষ নিজেই ব্যবহার করতে পারে সেগুলোকে নন-ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমনঃ

খাবার বড়ি

কনডম

২) ক্লিনিক্যাল:

যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের জন্য নারী-পুরষকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীর সাহায্য নিতে হয় সেগুলোকে ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমন: অস্থায়ী পদ্ধতি এবং  স্থায়ী পদ্ধতি।

★অস্থায়ী পদ্ধতি

★ইনজেকশন

★আই.ইউ.ডি

★নরপ্ল্যান্ট

★স্থায়ী পদ্ধতি

পুরুষ বন্ধ্যাকরণ- ভ্যাসেকটমী

নারী বন্ধ্যাকরণ- টিউবেকটমি বা লাইগেশন

খাবার বড়ির প্রকার, মাত্রা, কার্যপদ্ধতি এবং সুবিধা, অসুবিধা

★খাবার বড়ির প্রকার ও মাত্রা

জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য বিভিন্ন প্রকারের খাবার বড়ি পাওয়া যায়। যেমন: নরকোয়েস্ট, ওভাষ্ট্যাট, ওভাকন, মারভেলন, সি-৫, সুখী (স্বল্পমাত্রার বড়ি)। প্রত্যেক প্রকার বড়িতে হরমোনের মাত্রার পার্থক্য থাকতে পারে।

★কার্যপদ্ধতি

ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ক হতে ও বের হতে বাধা দেয়।

★সুবিধা

সাফল্যের হার বেশী।

অনাকাংখিত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়।

অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া যৌন সহবাস করা যায়।

মাসিক নিয়মিত হয়।

মাসিকের রক্তস্রাব কম হয়। মাসিকের ব্যাথা থাকলে তা কমে যায়।

নিয়মিত বড়ি খাওয়ার ফলে অনেক মহিলার স্বাস্থ্য ভাল হয়।

আয়রন বড়ির জন্য রক্তস্বল্পতা কম হয়।

ডিম্বাশয় ও জরাযু ঝিল্লি­তে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। পি.আই.ডি (পেলভিসের সংক্রমণ ) কম হয়।

বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে গর্ভধারণ করা যায়।

★অসুবিধা

প্রতিদিন মনে করে খেতে হয়।

যারা ধূমপান করে তাদের বেশী জটিলতা দেখা দেয়।

টিউমার বা জন্ডিস থাকলে ব্যবহার করা যাবেনা। মাসিকের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

 ওজন বেড়ে যেতে পারে।

মেজাজ খিটখিটে হয়।

পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়ার পর গর্ভধারণে দেরী হতে পারে।

এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নাই।

কার্যকারীতা

সাফল্যের হার বেশী। অনাকাংখিত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়।

কনডমের কার্যপদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা এবং কার্যকরীতা

কনডম রাবারের দ্বারা তৈরি চোঙ্গার মতো যার একদিক খোলা এবং একদিক বন্ধ বোঁটার মতো। এটি পুরুষের যৌনাঙ্গে পরতে হয়। বিভিন্ন নামে কনডম পাওয়া যায়। যেমন প্যানথার, ম্যাজিষ্টিক, সেনসেশন।

★কার্যপদ্ধতি

সহবাসের সময় পুরুষাঙ্গে কনডম ব্যবহারের ফলে শুক্রকীট নারীর  জরাযুতে প্রবেশ করতে পারে না । ফলে শুক্রকীট ডিম্বানুর সংস্পর্শে আসতে পারে না বলে নারী গর্ভবতী হয় না।

★সুবিধা

যে কোন পুরুষ ব্যবহার করতে পারে।

কোন ডাক্তারের সহযোগীতা লাগে না।

কনডম বেশ সস্তা এবং সব জায়গায় কিনতে পাওয়া যায়।

 এইচআইভি/এইডস সহ নানা রকম যৌন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

যৌন সহবাস দীর্ঘায়িত হয়।

জন্ম নিয়ন্ত্রনে পুরুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

★অসুবিধা

প্রত্যেক সহবাসে ব্যবহার করতে হয়।

দু’জন সঙ্গীরই যথেষ্ট সহযোগিতা থাকা দরকার।   মোঃ আব্দুর রহমান ফাহাদ।।

জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট।।

 

 

12 comments

leave a comment