সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই সঠিক নিয়মিত ও পরিমিত খাবার।। "Maintaining your skin at its optimal health and apearance will greatly contribute to your quality of life". নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার।।
Post

ঘাড়ের বাত : সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস জেনে রাখুন কাজে দিবে।।

বাত ব্যাথা

 

মানুষের মেরুদণ্ড ৩৩টি ভার্টিব্রা বা কশেরুকা দিয়ে তৈরি। ঘাড়ের অংশে থাকে সাতটি কশেরুকা। এই কশেরুকাগুলো একটি অপরটির সাথে ডিস্ক ও লিগামেন্ট দিয়ে সংযুক্ত থাকে। মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে উত্তলভাবে বাঁকানো। সবচেয়ে বেশি বাঁকানো থাকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ কশেরুকার মধ্যকার ডিস্ক বরাবর। এই ডিস্কে স্পনডাইলোসিস বেশি ঘটে, কারণ এই স্থানে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।

 

প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রিবা কশেরুকা বাদে ঘাড়ের পাঁচটি কশেরুকা প্রায় একই রকম দেখতে। সাধারণত ২০ বছর বয়সের পর থেকেই গ্রিবা কশেরুকাগুলোতে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়। দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্কের পানির ভাগ কমতে শুরু করে। ফলে ডিস্ক হারাতে থাকে তার স্থিতিস্থাপকতা। ডিস্কগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে কশেরুকাগুলোর প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে ঘষা খেতে থাকে ও তৈরি হয় হাড়ের উপবৃদ্ধি। এই হাড়ের উপবৃদ্ধিগুলো ঘাড়ের দুর্বল ও নড়বড়ে কশেরুকাগুলোকে কিছুটা সুস্থিতি দিলেও আরেকটি যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। দুটো কশেরুকার মাঝের যে ছিদ্র দিয়ে সুষুম্না স্নায়ুগুলো বেরিয়ে আসে সুষুম্নাকাণ্ড থেকে, সেই ছিদ্রের ভেতরও এসব হাড়ের উপবৃদ্ধিগুলো তৈরি হতে থাকে। ফলে ছিদ্রগুলো সরু হয়ে যায় এবং চাপ পড়ে সেই সব সুষুম্না-স্নায়ুমূলে চাপের ফলে ব্যথা ঘাড় থেকে নেমে আসে হাত ও আঙুলে।

 

স্পনডাইলোসিস সাধারণত ঘটে ঘাড়ের নিচের চারটি কশেরুকাতে। অর্থাৎ চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে। উপরের তিনটি কশেরুকায় স্পনডাইলোসিস খুব কম হয়। কারণ ওখানে খুব একটা চাপ পড়ে না। সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছনে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে ও বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে ও আঙুলে ছড়িয়ে পড়ে।

 

কী কারণে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস হয়?

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের হাড় ও কার্টিলেজে কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে, যার কারণে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস হয়। এ পরিবর্তনগুলো হলো :

পানিশূন্য ডিস্ক : ডিস্কগুলোর আপনার মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে কুশনের মতো কাজ করে। ৪০ বছর বয়সে বেশির ভাগ লোকের মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো শুকাতে শুরু করে এবং কুঁচকে যায়। ফলে একটি হাড়ের সাথে আরেকটি হাড়ের ঘষা লাগে।

 

ডিস্ক সরে যাওয়া : এটাকে বলে হার্নিয়াটেড ডিস্ক। এটাও বয়সের কারণে হয়। ডিস্ক স্ফীত হয় বা বের হয়ে আসে; ফলে সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ুমূলে চাপ পড়ে।

বোন স্পার : ডিস্ক ক্ষয় হয়ে গেলে সেখানে ছোট ছোট হাড় তৈরি হয়, কখনো কখনো এই হাড়গুলোকে বোন স্পার বলা হয়। এই বোন স্পারগুলো মাঝে মধ্যে সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ুমূলে খোঁচা দেয়।

লিগামেন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া : লিগামেন্টগুলো হলো টিস্যু দিয়ে তৈরি কর্ড বা দড়ি, যা একটি হাড়কে আরেকটি হাড়ের সাথে সংযুক্ত করে। বয়স বাড়লে মেরুদণ্ডের লিগামেন্টগুলো শক্ত হয়ে যায় ও চুন জমে। ফলে ঘাড়ের নমনীয়তা কমে যায়।

 

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসে কী উপসর্গ দেখা দেয়?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। যখন উপসর্গ দেখা দেয় তা স্পষ্টই ঘাড়কে আক্রান্ত করে, ঘাড় ব্যথা হয় ও শক্ত হয়ে যায়।

কখনো কখনো সুষুম্না পথ সরু হয়ে গেলে সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ুমূলে চাপ পড়ে এবং সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস দেখা দেয়। যদি আপনার সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড কিংবা স্নায়ুমূলে খোঁচা লাগে, তখন বাহু ও হাতে ঝিনঝিন করা ও অবশ হওয়া উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মোটামুটিভাবে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের উপসর্গগুলো নিম্নরূপ :

 

* ঘাড়ের ব্যথা হওয়া।

* ঘাড়ের ব্যথা অনেক সময় বাহু ও হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া।

* ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ঘোরাতে না পারা। ঘোরাতে গেলে বা পেছনে বাঁকা করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।

* ঘাড়ে ব্যথাসহ হাতের আঙুল ঝিনঝিন করা।

* ঘাড়ে ব্যথাসহ হাত বা হাতের আঙুলে অবশ অনুভূতি হওয়া।

* ঘাড়ের ব্যথা মাঝে মধ্যে কাঁধে বা মাথার পেছনের দিকে ছড়িয়ে যাওয়া।

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো কী কী?

 

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে :

* বয়স : বয়স বাড়ার সাথে সাথে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস হওয়া স্বাভাবিক। বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হতে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো পানিশূন্য হতে থাকে এবং কুঁচকে যেতে থাকে।

* পেশা : কিছু কিছু কাজে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে বারবার ঘাড় ঘোরানো, ঘাড় বিসদৃশ অবস্থানে রাখা কিংবা মাথায় অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপানো।

* ঘাড়ে আঘাত : আগে ঘাড়ে আঘাত পেলে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

* বংশগত কারণ : কিছু পরিবারে সময়ের সাথে সাথে এসব পরিবর্তন খুব বেশি ঘটে, আবার কিছু কিছু পরিবারে পরিবর্তন ঘটে কম।।

 

মোঃ আব্দুর রহমান ফাহাদ।।

জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট

12 comments

leave a comment